শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপাঃ পটুয়াখালীর দশমিনায় ক্রয় করা সম্পত্তিতে প্রভাবশালীদের বাধার কারণে নিস্ব হওয়ার পথে একটি পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ২নং আলিপুর ইউনিয়নের পূর্ব আলিপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রমানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিন পশ্চিম পাশে নাসির হাওলাদারের বাড়িতে। টাকা দিয়ে জমি কিনেও সম্পূর্ণ জমির দখল পাচ্ছেন না নাসির হাওলাদার (৫২) নামের কৃষক। জমির দখল নিতে গেলেই তাকে হত্যার হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে প্রভাবশালীরা। ওই চক্রের ভয়ে জমির সকল বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্তে¡ও দীর্ঘদিনেও তিনি জমির পুরো জায়গা দখল নিতে পারছেন না। সম্প্রতি ওই ক্রয়কৃত সম্পত্তির পুরো অংশ দখল পেতে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। তিনি আশঙ্কা করছেন যেকোনো সময় প্রভাবশালীরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলতে পারে। এ জন্য তিনি জীবনের নিরাপত্তাসহ ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে ক্রয়কৃত সম্পত্তির মালিক নাসির হাওলাদার মঙ্গলবার (৭ মার্চ) জানান, আমি কৃষক মানুষ। কৃষি কাজ ও ঘরবাড়ি নির্মানের জন্য ৮৩ শতাংশ জমি ক্রয় করি। পূর্ব আলিপুরা ৭৮ নং মৌজার খতিয়ান নং- ২২৭, যার দলিল নং- ৩৭২৬, তারিখ- ০১/০২/২০০১, দাগ নং- ৭১১৭, দলিল নং- ১৪৭০, তারিখ- ১৬/০৬/২০০৯, দাগ নং- ৭১০৯, দলিল নং- ৮৫৭, তারিখ- ২০/০৩/২০০৮, দাগ নং- ৭১০৯, দলিল নং- ১৬৮২, তারিখ- ০৩/০৭/১৯৯৭, দাগ নং- ৭১০৯। এছাড়াও আরো দলিল আছে। আকিমন বিবি, কুলসুম বিবি, ময়না বিবি, সোনাবানু বিবি, সুন্দর আলী খান, ইদ্রিস খানসহ অনেকের কাছ থেকে আমি এই জমি ক্রয় করি। দাতারা আমাকে ৮৩ শতাংশ জমির মধ্যে ৪০ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দিয়ে বাকি ৪৩ শতাংশ জমি মাপ ঝোপ করে পরে দখল বুঝিয়ে দিবেন বলে জানান। আমি দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে ৪০ শতাংশ জমির মধ্যে বাড়িঘর, পুকুর, গোয়াল ঘর, রান্না ঘর নির্মান করে এবং গাছপালা রোপণ করে আসছি। তিনি আরো বলেন, আমার রান্না ঘরের সাথে আমাদের ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ২টি রেইন্ট্রি গাছ রোপণ করেন। গাছ ২টি বড় হলে আমার রান্না ঘরের মধ্যে ঢুকে যায় বিধায় আমি মেম্বরকে আমার জায়গা থেকে গাছ ২টি কেটে নিতে বললে তিনি আজ নিব কাল নিব বলে আর নেননি। এখন উল্টো গাছ না কেটে আমাকে সহ আমার পরিবারকে মারধর হুমকি দেয়। ওই গাছ তিনি কাটবেন না এবং কেউ গাছ কাটলে তাকে গাছ কাটার মামলায় জেলের ভাত খাওয়াইবে। আমার ওই জায়গায় এখন তিনি নিজের জায়গা বলে দাবি করে বসে আছেন। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না। নজরুল ইসলাম জামাল মেম্বর একজন প্রভাবশালী। সে এখন আমার জায়গা দখল করার বিভিন্ন পায়তারা করছে। আমি এই জমি করার জন্য কৃষি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি। এখন কৃষি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু আমি সম্পূর্ণ জায়গাও পাই নাই। এ বিষয়ে জমির মালিক কৃষক নাসির হাওলাদারের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, এই জমি কেনার পর থেকে নজরুল ইসলাম জামাল মেম্বরের ইন্ধনে প্রভাবশালীরা আমার স্বামী ও শাশুরীকে প্রায় ২০ বার মেরেছে। আমার শাশুরী বরিশাল হাসপাতালেও ভর্তি ছিল। এ বিষয়ে এলাকার সকলে জানে। এখন আমাদের পুরো জায়গা দখল করার ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন হুমকি দিতেছে। আমরা এর সঠিক সমাধান চাই।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ খবির মাতব্বর, বেল্লাল মাতব্বর, দুলাল মাতব্বর, জাকির মাতব্বর, সুমন মাতব্বর ও সোহাগ মাতব্বর জানান, নাসির হাওলাদারকে এক জায়গা থেকে জমি দেওয়া হয় নি। দাগের মাথায় মাথায় যেখানে জায়গা দেওয়া হয়েছে সেখান থেকেই জায়গা দেব অন্য জায়গা থেকে নয়। এ বিষয়ে সরেজমিনে ওই এলাকার কবির হোসেন, স্থানীয় সার্ভেয়ার কালাম হাওলাদার, শহিদুল মোল্লা এরা জানান, দলিলে নাসির হাওলাদারের জায়গা আছে। এই জমি নিয়ে কয়েকবার মাপা হয়েছে। প্রতিপক্ষরা মাপঝোপ মানে না এবং গায়ের জোরে চলে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার বসা হয়েছে। তারপরও আমি দেখছি। এ বিষয়ে আলিপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সাগর জানান, ওই জায়গা নিয়ে অনেক আগে থেকেই ঝামেলা চলে আসছে।
নাসির হাওলাদারের জায়গা সম্পূর্ণ বুঝিয়ে দেওয়া হয় নাই। দু’পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করব।
দশমিনা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply